আমাদের যেতে হবে অনেক দূর: আসাদুজ্জামান নূর

দর্শক থেকে শুরু করে সব মহলে বিজ্ঞাপন নিয়ে অনেক অভিযোগ। আপনারা এ নিয়ে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভবিষ্যতে কার্যকর আরো কিছু করবেন কী?
অবশ্যই। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সম্মানিত বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি, কোনো অনুষ্ঠানের মাঝখানে অনির্ধারিত সময়ের জন্য বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়; এটা কোনো দর্শকই দেখেন না। হয় তিনি টিভির সামনে থেকে উঠে যান বা রিমোট হাতে অন্য চ্যানেলে চলে যান। কিন্তু মানুষ এক বসাতেই কোনো একটি নাটক দেখতে চায়। এতে করে বিজ্ঞাপনের কোনো ফায়দা হয়না। অথচ কোনো বিজ্ঞাপন যদি মানুষ দু’বারও দেখে তাহলেও তো বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রচারটা হয়। তারা যদি কিছু বেশি পয়সা দেয় তাহলে আমরা অনায়াসেই কাজটি করতে পারি। এতে কিছু ক্লায়েন্ট রাজিও হয়েছেন। এবং আমি মনে করছি ভবিষ্যতে আমরা এ ধরণের আরো কিছু উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবো।

আপনাদের প্রচারিত নাটকগুলোয় তরুণ নির্মাতাদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি প্রতিষ্ঠান আছে নিমকো। যেহেতু এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান তারা কিন্তু তরুণ নির্মাতাদের তৈরি করতে তাদের দরজা খুলে দিতে পারে। তারা যদি দরজা একটু খুলে দেয় এবং এটাকে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চায়, সেক্ষেত্রে তাদের সুযোগ ও সম্ভাবনা দুটোই আছে। সেখানে ছেলেমেয়েরা গিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন এই বিষয়গুলো পড়াচ্ছে। এখন আমাদের দেশে যে কয়টি চ্যানেল গড়ে উঠেছে সেখানে দক্ষ জনশক্তির খুব অভাব। সেখানে শুধু টেকনিকাল লোকজন নয়, সম্পাদক, যারা ডেস্কে কাজ করবেন, প্রযোজক, সম্প্রচারের লোকজন, যারা ক্যামেরা চালান সবখানেই ব্যাপক ঘাটতি। নূন্যতম কাজ জেনে অনেকেই কাজে নেমে পড়েছেন বলেই কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। সেখানে আমরা আমাদের ক্ষেত্রে যেটা করছি তাদেরকে ইন হাউস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। কিন্তু যদি সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ অব্যাহত থাকে তাহলে এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠবো।

এটার পাশাপাশি আরেকটি সঙ্কট আমি যেটি মনে করছি, সেটা হলো, যারা পারফর্মার, যারা অভিনয় করবেন, গান গাইবেন এদের সংখ্যাও সীমিত। এখন টেলিভিশন খুললেই দেখা যায় একই মুখ একাধিক চ্যানেলে। গানের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। সেখানে নতুন মেধা খুঁজে বের করতে হবে। এই জায়গাটাও আমাদের একটি বড় কাজ।

এই ক্রাইসিস মোকাবেলায় আমরা তো আর প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবো না। আমরা নতুন মুখ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। যেমন তরুণ নাট্যকার ও নাট্যনির্মাতাদের সুযোগ দিচ্ছি; নতুন শিল্পীদের সুযোগ করে দিচ্ছি। এখন হয়তো সবাই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এটা করে। এ পথে নতুন শিল্পী দু’একজন আসছেন। কিন্তু আমরা যেভাবে ব্যাপক আকারে এটা করতে চাই তা হচ্ছে না। এই জায়গায় অবশ্যই আমাদের নতুন করে ভাবার সুযোগ আছে। এ বিষয়ে আমরা ভাবছিও।

গত বছর আপনার এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছিলেন, নাট্যশিল্পী ও কলাকুশলিদের সম্মানা জানাবেন।
এই পুরস্কারের বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব একটা অগ্রসর হতে পারিনি। গত বছর আমরা কে হতে চায় কোটিপতির মতো একটি আর্ন্তজাতিক অনুষ্ঠান নিয়ে এতোটাই ব্যস্ত ছিলাম যে, আমরা নতুন করে এ নিয়ে ভাবতে পারিনি। এ অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য খুব বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিলো। এখানে অনেক টাকার বিষয় জড়িত ছিলো। বাংলাদেশ যে ধরণের ছোট বাজার সেখানে স্পন্সর, বিজ্ঞাপন এই সব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে পারিনি। এবারে এই অনুষ্ঠানটিকে আমরা একটি ছকে বেঁধে ফেলেছি। সুতরাং আমরা কোটিপতি করলেও অতোটা চাপ থাকবে না। এখন আমরা অন্য বিষয়গুলো ভাবতে পারবো।

| More
Page: 1 , 2 , 3 , 4 , 5