এক ঝলক

ফ্ল্যাশব্যাক: ব্র্যাঞ্জেলিনার সাত বছরের প্রেমপঞ্জি

এ মুহুর্তে হলিউডের সবচেয়ে বড় খবর- সাত বছর একত্রে কাটানোর পর এবার সঙ্গীনী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন ব্র্যাড পিট। জোলির আঙুলে আড়াই লাখ মার্কিন ডলারের হীরের আংটি পরিয়ে বাগদানের পর্বটিও শেষ করে ফেলেছেন এরইমধ্যে। নিজেদের ছয় সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এবার গীর্জায় গিয়ে দুজনের কবুল বলাটাই বাকি।

ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলি- হলিউডি এই দুই অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকার সাত বছরের এই প্রেমকাহিনী নিয়ে মিডিয়ার কৌতুহলের শেষ ছিলো না কখনোই। আর এ কারণেই এই জুটির প্রেমের প্রতিটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা নথিভুক্ত করে রাখার ব্যাপারে বিলকুল কোনো কসুর করেনি আন্তর্জাতিক মিডিয়া। ব্র্যাঞ্জেলিনার প্রেমকাহিনীর সেসব ঘটনাপঞ্জি নিয়েই সাজানো হয়েছে এবারের এক ঝলক। লিখেছেন সেঁজুতি শোণিমা নদী

২০০৪ সালের গ্রীষ্ম
ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রথমবারের মতো চুক্তিবদ্ধ হলেন ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’ এ। তখন থেকেই এই হবু মিস্টার অ্যান্ড মিসেস-এর প্রেমের গুজব ভাসতে শুরু করলো হলিউডি মহলে। তবে নিজেদের মধ্যকার এ ধরনের কোনো সম্পর্কের কথা যথারীতি নাকচ করে দিলেন তারা। মিডিয়াও এ নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করলো না।

জানুয়ারি ২০০৫
সাত বছর একত্রে সংসার করার পর জেনিফার অ্যানিস্টন এবং ব্র্যাড পিট ঘোষণা দিলেন বিয়ে বিচ্ছেদের।

মার্চ ২০০৫
অ্যানিস্টন ডিভোর্সের জন্য আবেদন করলেন।

এপ্রিল ২০০৫
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির দত্তক নেওয়া ছেলে ম্যাডক্সের সঙ্গে কেনিয়ার একটি সমুদ্র সৈকতে সময় কাটাতে দেখা গেল ব্র্যাড পিটকে। জোলি এবং ম্যাডক্সের পাশে পিটের তোলা ওই ছবি নিয়েই হলিউডে শুরু হলো ব্যাপক আলোড়ন।

২০০৫ এর গ্রীষ্ম
ডাব্লিউ ম্যাগাজিনের ডোমেস্টিক ব্লিস সংখ্যায় একত্রে ফটোশুট করলেন অ্যাঞ্জেলিনা এবং ব্র্যাড। সঙ্গে সঙ্গে ফের তোলপাড় শুরু হয়ে গেল মিডিয়াতে। এ জুটির ডেটিং করার বিষয়টি সবাই একরকম নিশ্চিত হলেন। কিন্তু তখনো হলিউডি প্রেস রিলিজ, মানে কি-না ‘আমরা স্রেফ ভালো বন্ধু’ এমন কথা মুখে নিয়েই একসঙ্গে ঘুরতে শুরু করলেন এ দুজন। ওদিকে জোলি দত্তক নিলেন তার দ্বিতীয় সন্তান জাহ্রাকে।

অক্টোবর ২০০৫
আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো ব্র্যাড পিট এবং জেনিফার অ্যানিস্টনের বিয়ে বিচ্ছেদ।

জানুয়ারি ২০০৬
মিডিয়াকে স্তম্ভিত করে দিয়ে পিপল ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলিনা ঘোষণা দিলেন, তিনি ব্র্যাডের সন্তানের মা হতে চলেছেন। তিনি আরো জানালেন, তার দুই দত্তক নেওয়া সন্তানের নামের শেষে তিনি আইনসঙ্গতভাবে যুক্ত করেছেন পিটের নাম।

মে ২০০৬
অ্যাঞ্জেলিনা জন্ম দিলেন তার এবং ব্র্যাড পিটের প্রথম সন্তানের। ফুটফুটে সেই কন্যা শিশু শিলোহর প্রথম তোলা ছবির স্বত্ত্ব মোট সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলারে কিনে নিলো পিপল এবং ওকে ম্যাগাজিন। ব্র্যাঞ্জেলিনা এই অর্থের পুরোটুকুই ব্যয় করলেন দাতব্য কাজে।

অক্টোবর ২০০৬
ব্র্যাড পিট ঘোষণা দিলেন, যেদিন আমেরিকায় সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধতা পাবে, সেদিন তিনি বিয়ে করবেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে। তার আগে কিছুতেই নয়!

মার্চ ২০০৭
জোলি এবং পিট যৌথভাবে দত্তক নিলেন তাদের চতুর্থ সন্তান প্যাক্স থিয়েনকে। ভিয়েতনামের এক অনাথ আশ্রম থেকে তিন বছরের প্যাক্সকে দত্তক নেন তারা।

মে ২০০৮
জোলি আবারো ঘোষণা দিলেন মা হওয়ার। এবার একটি নয়, ব্র্যাডের যমজ সন্তানের মা হওয়ার খবর দিলেন তিনি।

জুলাই ২০০৮
জন্ম হলো যমজ ভাইবোন নক্স লিওন এবং ভিভিয়েন মার্শেলিনের। এই দুজনের প্রথম ছবির স্বত্ত্ব যথারীতি ১৪ মিলিয়ন ডলারে কিনে নিলো পিপল এবং হ্যালো! ম্যাগাজিন। এই অর্থের পুরোটুকুই গেল জোলি-পিট চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে।

অক্টোবর ২০০৮
প্রথমবারের মতো জোলি নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে স্বীকার করলেন, পিটের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরু মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথের সময় থেকেই। তিনি এও জানান, ঐ সময়টাতে ব্র্যাডের প্রতি তার আকর্ষণ এতোটাই দুর্নিবার ছিলো যে, তিনি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন! ওদিকে ব্র্যাড জানালেন, জেনিফারের সঙ্গে তার বিয়ে টিকে থাকার সময়কালে কোনো প্রতারণা করেননি তিনি। জোলির সঙ্গে ডেটিং শুরু হয় তাদের ডিভোর্সের পরেই।

নভেম্বর ২০০৮
জোলির এক মন্তব্যে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন অ্যানিস্টন। ভোগ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যানিস্টন জানালেন, ‘জোলি ব্র্যাডের আকর্ষণেই কাজে যেতেন? এই কথাটা তার মুখ থেকে শোনাটা সত্যিই বিরক্তিকর!’

সেপ্টেম্বর ২০১১
প্যারেড ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোমা ফাটালেন ব্র্যাড পিট। জানালেন, অ্যানিস্টনের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনে কোনো মজা খুজে পেতেন না তিনি। তিনি আরো জানান, এরকম বিরক্তিকর বৈবাহিক জীবন থেকে তাকে উদ্ধার করেন জোলি। তার সঙ্গে ঘর করে সুখেই আছেন ব্র্যাড।

জানুয়ারি ২০১২
এক হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্র্যাড জানান, ‘আমাদের বাচ্চারা ইদানিং প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে, তাদের মাকে কেন আমি এখনো বিয়ে করিনি? আমি বলেছিলাম যে, সমলিঙ্গের বিয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিয়ে করবো না। কিন্তু মনে হচ্ছে সে কথাটি আর রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের বাচ্চারা আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সুখেই আমাদের সুখ। তাই তাদের এই অনুরোধ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

এর পরের কাহিনী এতোক্ষণে সবার জানা হয়ে গেছে। কেবল নিজেদের ছয় সন্তানই নয়, বিশ্বজুড়ে থাকা তাদের অসংখ্য শুভাকাক্সিখকেও আনন্দে ভাসিয়ে আংটি বদল করে ফেলেছেন এ দুজন। সবার চোখ এখন ব্র্যাঞ্জেলিনার এই মহাকাব্যিক প্রেমের সফল পরিণতির দিকেই।



বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/এসএন/ওএস/এইচবি/এপ্রিল ১৬/১২

| More
Page: 1